ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চলতি মৌসুমে মশাবাহিত এই রোগটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পাশাপাশি ময়মনসিংহেও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি রোধে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মৃত ব্যক্তিরা জ্বর ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকদের শতচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি, যা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন যাদের অনেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা দিনরাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন যাতে নতুন করে কোনো প্রাণহানি না ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে বহু মানুষ পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ডেঙ্গু রোগীদের আলাদাভাবে সেবা দেওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সেল গঠন করা হয়েছে। তবে রোগীর এই অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধুমাত্র চিকিৎসালয়ের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মশা নিধন অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং জলাশয় বা জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও আঙিনায় যেন পানি জমতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।