মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের এক সাধারণ গ্রাহকের নামে পাঁচশ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এই অস্বাভাবিক ও আকাশছোঁয়া অংকের বিল পাঠানো হয়। অথচ এই পরিমাণ বিদ্যুতের জন্য প্রকৃত বিল আসার কথা ছিল দুই হাজার টাকারও কম। আকস্মিক এমন আজগুবি অংকের বিল হাতে পেয়ে গ্রাহক ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও বিপাকে পড়েন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল হিসেবে ওই গ্রাহকের নামে মোট ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা দাবি করা হয়। মিটারের রিডিং অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যবহারের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ এবং ভ্যাটের নামে মূলত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ যোগ করা হয়েছিল। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে এই বিল আরও বেড়ে পাঁচশ ত্রিশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। অথচ স্বাভাবিক নিয়মে সব খরচ মিলিয়ে বিলটি হওয়ার কথা ছিল মাত্র এক হাজার ৯৬৩ টাকা।
অস্বাভাবিক এই বিলের কাগজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব মহলেই এমন দায়িত্বহীন ভুলের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন এই ঘটনাকে শুধুমাত্র ভুতুড়ে নয় বরং চরম আজগুবি বলে মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে বিদ্যুৎ অফিসের কর্তৃপক্ষ এবং দ্রুত ভুল সংশোধন করে নতুন বিল তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত সেই বিল ব্যাংকে গিয়ে পরিশোধ করেন গ্রাহক। এদিকে, বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে এত বড় ভুলের জন্য মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিমসহ মোট চারজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছে। মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে চলে যাওয়ায় এই বিপত্তি ঘটেছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।