দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শীর্ষ কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিত কওমিয়া সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতন ও মারধর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা পরিচালনা না করার বিষয়েও বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন আকারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রকৃতপক্ষে অপরাধ বা কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য যত্রতত্র মারধর না করে যথাযথ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অপরাধীকে যেন কোনো অবস্থাতেই প্রশ্রয় দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
মহিলা আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায়। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আবাসিক ব্যবস্থা না রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কওমি মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মূলত এই নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এই সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হবে এবং এর তদারকি প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানামুখী আলোচনা চলছে। দেশের শীর্ষ এই কওমি বোর্ড আশা প্রকাশ করেছে যে, মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালকরা এই নির্দেশনাগুলো আন্তরিকভাবে মেনে চললে সামগ্রিক শিক্ষা পরিবেশে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।