November 4, 2026, 9:17 am

মানিকগঞ্জ ও সাভার: ডাকঘর আছে, পোস্টমাস্টার নেই

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, November 4, 2026
  • 12 Time View

জাতীয় ডেস্ক: মানিকগঞ্জ ও সাভার এলাকার বিভিন্ন ডাকঘরে তীব্র জনবল সংকট দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলার এই দুই উপবিভাগের অধীনে সহকারী পরিদর্শকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট ৬৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এর ফলে চিঠিপত্র ও পার্সেল আদান-প্রদান থেকে শুরু করে দাপ্তরিক ও আর্থিক লেনদেনের মতো নানামুখী কার্যক্রম চরম বিপত্তির মুখে পড়েছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কুরিয়ার সার্ভিসের দিকে ঝুঁকছেন, যা ঐতিহ্যবাহী এই জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তথ্য অধিকার আইনে করা একটি আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতেই উপজেলা পোস্টমাস্টারের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রধান ডাকঘরসহ জেলার বিভিন্ন শাখা ও উপডাকঘরে এই শূন্যতা বিরাজ করছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে সাভার, ধামরাই এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর অঞ্চলেও। প্রধান ও উপ-পোস্টমাস্টার থেকে শুরু করে পোস্টাল অপারেটর, পোস্টম্যান, প্যাকার এবং রানারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক না থাকায় পুরো প্রশাসনিক কাঠামোতে একধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের কর্মীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের কোনো বাড়তি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগেও ডাকঘরে চিঠি ও পার্সেল পাঠানোর প্রবণতা কমেনি, বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে আসা শত শত চিঠি ও পার্সেল নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ডাকঘরে আর্থিক লেনদেনের কাজও করতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে গিয়ে কর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সাটুরিয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উপডাকঘরে পোস্টাল অপারেটর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পোস্টমাস্টারের কাজ চালানো হচ্ছে। সাভার উপজেলা ডাকঘরেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

জনবল সংকটের এই বিরূপ প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র, চাকরির আবেদন কিংবা ব্যবসায়িক পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় সেবাগ্রহীতাদের নিজেরাই ডাকঘরের প্রাথমিক কাজকর্ম সম্পন্ন করতে হয়, যা তাদের সময় ও শ্রম অপচয় করায়। সাভার অঞ্চলের ডাকঘরের একজন কর্মী জানান যে তাঁকে কেবল চিঠি বিলির কাজ নয়, বরং দাপ্তরিক ও ব্যাংকের কাজও করতে হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com