আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসের খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর। ওই বিবৃতিতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধে ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।
এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এখন পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আগেই জানিয়েছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ওইসব দেশ থেকে ইরানের ওপর কোনো হামলা না আসবে, ততক্ষণ তেহরান তাদের ওপর কোনো আক্রমণ চালাবে না।
প্রতিবেশীদের বিষয়ে নমনীয় হলেও আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইরান। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন কর্মকাণ্ড যদি অব্যাহত থাকে, তবে এ অঞ্চলের স্থল, জল ও আকাশে থাকা ‘অপরাধী আমেরিকা’ এবং ‘ভুয়া জায়নিস্ট শাসনামলের’ (ইসরায়েল) সমস্ত সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে ওই সব লক্ষ্যবস্তুর ওপর অত্যন্ত জোরালো এবং চূর্ণ-বিচূর্ণকারী আঘাত হানা হবে।
এর আগে আরব প্রতিবেশীদের কাছে নজিরবিহীন ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে, মার্কিন চাপের মুখে মাথা নত করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তেহরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “ইরানের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি। আমাদের ভাইপ্রতিম প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ চালানোর কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই। আমি বারবার বলেছি, তারা আমাদের ভ্রাতৃতুল্য।”