পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে মার্জিন ঋণ নীতিমালায় কঠোর সংস্কার এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো গ্রাহক তার নিজ ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন না। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতার অনুপাত ১:১-এর বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। পাশাপাশি, মার্জিন হিসাবে বিনিয়োগকারীকে অন্তত ৫০ শতাংশ ইক্যুইটি বজায় রাখতে হবে।
নতুন নিয়মে ঝুঁকির মাত্রা কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। যদি কোনো বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি মার্জিন ঋণের ২৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তবে কোনো প্রকার আগাম নোটিশ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট শেয়ার বিক্রি করে হিসাব সমন্বয় করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া যে সকল কোম্পানির পিই রেশিও ৪০-এর বেশি অথবা শেয়ারপ্রতি আয় ঋণাত্মক, সেগুলোতে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। একই সাথে ‘জি’, ‘এন’ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার এবং এসএমই বোর্ডের শেয়ারকে ঋণের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে মার্জিন ঋণদাতাদের জন্য নিট সম্পদের চার গুণের বেশি ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া একক কোনো সিকিউরিটিতে মোট মার্জিন ঋণের ২০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না। নিয়মগুলো সঠিকভাবে পালনের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুই সদস্যের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে এবং ডিজিটাল বুথের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের মূল হিসাব থেকে মার্জিন ঋণের কার্যক্রম পরিচালনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।