রাজধানীর মেট্রোরেল লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের উড়াল অংশের কাজ চীনা কোনো সংস্থাকে দেওয়ার প্রস্তাব তুলতে গেলে সরাসরি অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই কমিটির বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রস্তাবটি তুলেছিল; তবে প্রস্তাবে ত্রুটি থাকায় বিভাগ নিজেই সেটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। সংশোধনের পর পরবর্তীতে আবার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মিলিত অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তৃতীয় নির্মাণ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫.৬ কিলোমিটার এবং নিউ মার্কেট থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ০.৯ কিলোমিটার, সম্মিলিতভাবে ৬.৫ কিলোমিটার উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা আছে এবং হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন তৈরির কথা রয়েছে। পুরো লাইন-৫ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হয়; এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যার মধ্যে সরকারি অনুদান ১২ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার এবং জাইকার ঋণ ২৯ হাজার ১১৭ কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ১ জুলাই ২০১৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত নির্ধারিত আছে; মোট দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার, যার ১৩.৫ কিলোমিটার পাতাল ও ৬.৫ কিলোমিটার উড়াল এবং ১৪টি স্টেশনের মধ্যে ৯টি পাতাল ও ৫টি উড়াল স্টেশন থাকবে।
দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রাকযোগ্যতায় ২৪টি প্রতিষ্ঠান দলিল নিয়েছিল, চূড়ান্তভাবে ৬টি আবেদন জমা পড়ে, চারটি প্রাকযোগ্যতা পান এবং শেষ রাউন্ডে তিনটি অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নে দুই প্রতিষ্ঠান উত্তীর্ণ হওয়ার পর আর্থিক প্রস্তাব খোলা হলে চীনের রেলওয়ে গ্রুপ, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্ধারিত হয়; দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ছিল সিনোহাইড্রো। ভ্যাট ও আয়কর ছাড়া তাদের সুপারিশকৃত দর ছিল ২ হাজার ২৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ১০% ভ্যাট ও ৭.৫% উৎসে আয়কর যোগ করলে মোট চুক্তিমূল্য দাঁড়ায় ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি, জাইকার অনাপত্তি ও ডিএমটিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ থাকার পরও প্রস্তাবে ত্রুটি থাকায় তা বাতিল করে সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে; এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।