October 1, 2026, 7:20 am
সর্বশেষ সংবাদ:
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা: চেভেনিং বৃত্তিতে পড়ার সুযোগ আজ বাংলাদেশের ইন্দোনেশিয়া পরীক্ষা ভারতে মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংসের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইল শিবির পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই, রোগীর মৃত্যু যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে ১৮ বছর বন্ধ এক্স-রে সেবা ৮ হাজার কোটির পাইপলাইন: চালুর আগেই শেষ গ্যারান্টির মেয়াদ বগুড়ার শেরপুর: হাজারো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র বহিষ্কার হওয়ার এক বছর পর জানা গেল, আম্মার ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ম্যাচের সঙ্গে থাকছে ফুটবলের রোমাঞ্চ ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজে ছুরিকাহত পাইলট ভারতীয়, ধন্যবাদ জানালেন নেতানিয়াহু

যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে ১৮ বছর বন্ধ এক্স-রে সেবা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 1, 2026
  • 12 Time View

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে এক্স-রে সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে করইতলা এলাকায় এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৫ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক উদাসীনতা ও লোকবলের অভাবে রোগীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে এনালগ ও ডিজিটাল মিলিয়ে দুটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় সেগুলো তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে উপজেলার সাধারণ রোগীদের রোগ নির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম একটি এনালগ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। চালুর প্রায় পাঁচ বছর পর, ২০০৭ সালে দায়িত্বে থাকা একমাত্র টেকনিশিয়ান অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে এক্স-রে কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো টেকনিশিয়ান নিয়োগ না দেওয়ায় সেবাটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের শেষ দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালে একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। নতুন এই মেশিনটি হাসপাতালে স্থাপন করা হলেও দক্ষ অপারেটর বা টেকনিশিয়ানের অভাবে সেটিও কোনো কাজে আসছে না। ফলে দুটি মূল্যবান মেশিনই বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

হাসপাতালে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, সামান্য এক্স-রে পরীক্ষার জন্য তাদের চড়া মূল্যে বাইরে বেসরকারি ক্লিনিক বা অন্য হাসপাতালে যেতে হয়। দুর্ঘটনায় হাত-পা ভাঙা বা বুকে আঘাত পাওয়া গরিব রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। চরপাগলা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আহাম্মদ জানান, বুকে আঘাত পাওয়ার পর এক্স-রে করানোর জন্য তাঁকে বাধ্য হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কমলনগর হাসপাতালেই যদি এক্স-রে চালুর ব্যবস্থা থাকত, তবে এই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে এত কষ্ট সহ্য করতে হতো না। স্থানীয়দের মতে, সরকারি হাসপাতালে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অলস পড়ে থাকা এবং সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়া এক ধরনের অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতালে উন্নত মানের এক্স-রে মেশিন দুটি থাকলেও কেবল টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলো পরিচালনা করা যাচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব করতে দ্রুত টেকনিশিয়ান পদায়ন করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনগণ অবিলম্বে সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগ করে এক্স-রে সেবা চালু করা হলে এলাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com