দেশের একটি এলাকায় রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে একটি নির্মাণাধীন সেতুর ঢালাই কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ রাতের বেলা এই অনিয়মের বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মুঠোফোনে এর ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দৃশ্যমান এই অনিয়মের বিষয়টি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয়দের ধারণ করা সেই ভিডিও এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেতু নির্মাণে এমন চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
জনস্বার্থের এই গুরুতর বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো প্রকল্পের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সেতুর ঢালাইয়ের মান এবং বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি এই অনিয়মের সত্যতা পুরোপুরি প্রমাণিত হয়, তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জনবহুল এই এলাকায় ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিম্নমানের এই নির্মাণ ভেঙে ফেলে নতুন করে কাজ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকরা।