March 15, 2026, 11:39 am
সর্বশেষ সংবাদ:
আপনারা কোনো নাগরিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন না: ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের হাসনাত এসএসসির প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে জিরো টলারেন্স: শিক্ষামন্ত্রী ইসরায়েলের পর এবার ইউক্রেনেও হামলা চালানোর ঘোষণা ইরানের ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় ট্রাম্পের আমাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা রয়েছে: ইরান সংসদে এ রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার অধিকার নেই: ডা. তাহের ট্রাম্পকে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ যুদ্ধে জড়িয়েছেন নেতানিয়াহু: ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে ‘ভয়াবহ বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ চললে ইসরায়েল ধ্বংস হতে পারে: ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা ইসরায়েলি সেনাদের ব্যারাকে ৪৭বার হামলা চালিয়েছে হিযবুল্লাহ

রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে ঝড়: দায় কার, বিতর্ক কেন?

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, March 15, 2026
  • 5 Time View

মোঃ মাইন উদ্দিন :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তা এখনও থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কেউ প্রশংসা করছেন, কেউ তীব্র সমালোচনা করছেন, আবার কেউ সরাসরি রাষ্ট্রপতিকেই দায়ী করে নানা মন্তব্য করছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিতর্কে অংশ নেওয়া অনেকেই সম্ভবত জানেন না, সংসদে দেওয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত কার লেখা এবং তার সাংবিধানিক বাস্তবতা কি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতা কার্যত সরকারের হাতে ন্যস্ত। সংসদের প্রথম অধিবেশন বা নতুন সংসদের সূচনায় রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেন, তা সাধারণত সরকারের নীতিনির্ধারণী বক্তব্যের প্রতিফলন হিসেবে প্রস্তুত করা হয়। অর্থাৎ এই ভাষণ রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত মতামতের দলিল নয়, বরং সরকারের কর্মকৌশল, পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির সারসংক্ষেপ।
এই বাস্তবতা অনেকেই উপেক্ষা করে সরাসরি রাষ্ট্রপতির দিকে আঙুল তুলছেন। অথচ সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। সরকার তার নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে সংসদে তুলে ধরে। ফলে ভাষণের রাজনৈতিক দায়-দায়িত্বের প্রশ্নে রাষ্ট্রপতিকে এককভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কতটা যৌক্তিক সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
অন্যদিকে অধিবেশনে বিরোধীদলের ওয়াকআউট এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নীরব উপস্থিতিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এড়ায়নি। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তিনটি বিষয়- রাষ্ট্রপতির ভাষণ, বিরোধীদলের ওয়াকআউট এবং সরকারদলের নীরবতা, একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ। কেউ কেউ এটিকে সংসদীয় রাজনীতির কৌশলগত অবস্থান হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের প্রতিবাদ, সমালোচনা কিংবা ওয়াকআউট নতুন কিছু নয়। আবার সরকারদলের সংযত প্রতিক্রিয়াও অনেক সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। তাই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেই মতপ্রকাশ যেন তথ্যভিত্তিক হয়। কারণ ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সমাজে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করার সময় দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু সেই সমালোচনা যদি সাংবিধানিক কাঠামো ও বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে করা হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করবে। অন্যথায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে বিভ্রান্তি, আর আড়ালে পড়ে যাবে প্রকৃত রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো।
গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই, এখানে প্রশ্ন করার অধিকার আছে, বিতর্কের সুযোগ আছে। তবে সেই প্রশ্ন ও বিতর্ক যদি জ্ঞানের ভিত্তিতে দাঁড়ায়, তবেই তা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সত্যিকারের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com