মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিক রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কারণে দেশের আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যা নিরসনে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এই সংকট সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম চীন সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এই মানবিক সংকট নিরসনে জোরালো ভূমিকা পালন করে। চীন যেহেতু মিয়ানমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র, তাই বেইজিংয়ের সদিচ্ছা ও কার্যকর মধ্যস্থতা এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি দেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যা কোনোভাবেই অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের রূপরেখা তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পরিশেষে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হলেও কূটনৈতিক আলোচনা থেমে নেই। চীন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতা পাওয়া গেলে দীর্ঘদিনের এই জটিল সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার চায় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব এই বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোকে তাদের নিজ ভূখণ্ডে পুনর্বাসন করা হোক।