গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় দুই শিশু সন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোতাহের হোসেন ওরফে সোহরাব নামে এক পান ব্যবসায়ী এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার শিকার ওই নারী পেশায় একজন ভিক্ষুক এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। অসহায় এই নারীর স্বামী প্রায় এক বছর আগে তাঁকে ছেড়ে চলে যান, যার ফলে তিনি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন এবং মানুষের সহায়তা নিয়ে চলতেন। ঘটনার দিনও তিনি পেটের দায়ে সন্তানদের নিয়ে বাইরে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জৈনাবাজার এলাকার একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন ওই নারী। তবে কয়েক মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া থাকায় বাড়ির মালিক তাঁকে ও তাঁর শিশুদের ঘর থেকে বের করে দেন। বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে রাতে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে আশ্রয় নেন। সেই সময় পান ব্যবসায়ী সোহরাব তাঁকে নিরাপদ আশ্রয় ও আর্থিক সহায়তার লোভ দেখিয়ে মাওনা চৌরাস্তার পূর্ব পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, সেখানেই সন্তানদের চোখের সামনে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন ওই ব্যবসায়ী। এ সময় তাঁর ছোট ছেলে সবকিছু দেখে কান্না করলেও লম্পট সোহরাব কর্ণপাত করেনি।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন ওই নারী। বরং তাঁকে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিচার না পেয়ে চরম হতাশায় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এই প্রক্রিয়ায় তাঁর শিশুসন্তানও আহত হয়। পরবর্তীসময়ে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার পানের আড়ত এলাকায় নিয়ে আসেন। সেখানে সংবাদ পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী নারীকে থানায় নিয়ে যায় এবং ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।
এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ পানের আড়তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গৌতম ও শহীদ নামের দুজনকে আটক করেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পান ব্যবসায়ী সোহরাব পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং দুজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।