চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উনকিলা গ্রামে সম্প্রতি এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে নিজের সর্বস্ব দিয়ে স্ত্রীকে পড়াশোনা করিয়েছিলেন এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্ত্রীর ভাগ্যে সরকারি চাকরি জুটার পরেই সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তিনি তার স্বামীকে তালাক দেন। এই অকৃতজ্ঞতা ও আকস্মিক বিবাহচ্ছেদের ঘটনাটি পুরো এলাকায় গভীর চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী স্বামী সাইফুল ইসলাম খোকন বহু বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে কষ্টার্জিত অর্থ নিয়মিত দেশে পাঠিয়ে আসতেন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল স্ত্রীর উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং তাকে একটি সরকারি উচ্চপদে দেখতে পাওয়া। প্রবাসের দুর্বিষহ জীবন ও ত্যাগের কথা ভুলে গিয়ে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস চাকরি পাওয়ার পরই সম্পূর্ণ বদলে যান। স্বামীর সকল অবদান ও ত্যাগের কথা অস্বীকার করে তিনি একতরফাভাবে এই বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্ত্রীর এমন চরম প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রবাসী সাইফুল ইসলাম। স্ত্রীর কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে না পেরে তিনি শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি ইতিমধ্যে স্থানীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি এই অন্যায়ের উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। আদালতের বারান্দায় এখন এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন এই আলোচিত ঘটনার নানা সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো আয়ের ওপর নির্ভর করে যারা নিজেদের জীবন গড়েন, তাদের একাংশের এমন আচরণ সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগী প্রবাসী সমাজের সচেতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।