দেশে স্বাস্থ্যখাতে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে এবং এর সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি চব্বিশ ঘণ্টার সময়সীমায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। তবে ওই একই দিনে রোগটিতে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে ৮৭ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে আরও ৯৩১ জন। সব মিলিয়ে এই একদিনে দেশজুড়ে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৮ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের সামাল দিতে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে এই সময়ে ৭৮৭ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৯২৫ জনকে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দেশব্যাপী হামে আক্রান্ত হয়ে এবং এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট পরিসংখ্যান অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শুধু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮২৩ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৯টি শিশু। ফলে উপসর্গ ও নিশ্চিত রোগ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২২ জনে, যা শিশু স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জনে, যার মধ্যে ১৮ হাজার ৭৬ জন নিশ্চিত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জনে, যাদের বড় একটি অংশ অর্থাৎ ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন।