আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার দিনই মানবিক কারণে আরেকটি ইরানি নৌযানকে ভারত নিজেদের বন্দরে নোঙরের অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। রয়টার্স
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক রাইসিনা ডায়ালগ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আইনি বিষয় যাই থাকুক না কেন, আমরা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখেছি। আমার মনে হয় আমরা সঠিক কাজটাই করেছি।
ভারত সরকারের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেহরান থেকে আসা জরুরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে গত বুধবার ইরানের নৌযান লাভানকে দক্ষিণ ভারতের বন্দরনগরী কোচিতে নোঙরের অনুমতি দেয়া হয়। একই দিনে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন হামলা চালিয়ে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট দেনাকে ডুবিয়ে দেয়।
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছাকাছি, উপকূল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে এ হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ৮৭ জন নাবিক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জরুরি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে ভারতের ওই সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই ভারত লাভানকে নোঙরের অনুমতি দেয়ার অনুরোধ পায়। জরুরি বার্তায় বলা হয়েছিল, জাহাজটিতে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়ায় নিরাপদ বন্দরে আশ্রয় প্রয়োজন।
বর্তমানে কোচির একটি নৌবাহিনী স্থাপনায় জাহাজটির ১৮৩ জন ক্রুকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। গোপনীয়তার শর্তে কথা বলা ওই সূত্র নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ও ইসরায়েল এক সপ্তাহ আগে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন, তার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা ধ্বংস করা।
মার্কিন নৌ ইনস্টিটিউটের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লাভান একটি উভচর অবতরণকারী নৌযান, যা সাধারণত সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, এই নৌযানসহ আরও দুটি জাহাজ ভারতের একটি নৌ-মহড়ায় অংশ নিতে এসেছিল এবং পরে একটি নৌবহর পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলমান সংঘাতের কারণে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ে।
নৌ-মহড়ার ওয়েবসাইট ও শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভারত আয়োজিত একটি নৌ মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথেই ইরানের ফ্রিগেট দেনা ভারত মহাসাগরে মার্কিন ডুবোজাহাজের হামলার শিকার হয়।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইরানের আরেকটি নৌযান বুশেহরকে পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের একটি বন্দরে নিয়ে গেছে। জাহাজটির অধিকাংশ নাবিককে রাজধানী কলম্বোর কাছে একটি নৌ শিবিরে রাখা হয়েছে।