November 2, 2026, 12:43 am

৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 1, 2026
  • 14 Time View

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পুলিশ ক্যাডারের ৩০তম ও ৩১তম ব্যাচের মোট তিনশ সাতান্ন জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাজনিত বিভিন্ন তথ্য জরুরি ভিত্তিতে চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো এক বিশেষ নির্দেশনায় আগামী মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এই বিশাল বহরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩০তম ব্যাচের একশ ঊনআশি জন এবং ৩১তম ব্যাচের একশ আঠারো জন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই তথ্য তলব করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাঠানো এই নির্দেশনামূলক চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালিকাভুক্ত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বে বা বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি কোনো মামলা থেকে থাকে তবে সেটির বর্তমান আইনি অবস্থা এবং সর্বশেষ আপডেট কী, তা বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য কাগজের কপি এবং ডিজিটাল ফাইল বা সফট কপি—উভয় মাধ্যমেই পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে হবে। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দ্রুততার সঙ্গে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক এবং বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত অক্টোবরের শেষ দিকে পারসোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখা থেকেও একই ধরনের কর্মকর্তাদের বিভাগীয় শৃঙ্খলা এবং ফৌজদারি মামলার তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার জন্যই মূলত ক্রাইম অ্যানালাইসিস শাখা থেকে নতুন করে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান তালিকায় থাকা এই তিনশ সাতান্ন জন কর্মকর্তা সবাই বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অথবা অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার পদমর্যাদায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলা পুলিশের পাশাপাশি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত রয়েছেন। তালিকার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলের বিবরণীর পাশাপাশি কয়েকজনের বিশেষ পেশাগত অবস্থার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন এই তালিকায় থাকা একজন কর্মকর্তা বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় আছেন এবং অন্য আরেকজন বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে তালিকাভুক্ত সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। মূলত এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, থেকে থাকলে সেগুলোর আইনি অগ্রগতি কী এবং কোনো বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত এই সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর পুলিশ প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com