চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত এই ফলাফল বিশ্লেষণে দেশের একটি বড় অংশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী শূন্যতার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম যাচাই-বাছাই করে এই ফলাফল চূড়ান্ত করেছে। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষাবর্ষের এই প্রাথমিক ধাপে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে অনলাইনে আবেদন করেছেন মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তির প্রাথমিক সুযোগ পেয়েছেন ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন। তবে আবেদন করার পরও নানা কারণে ভর্তি বঞ্চিত হয়েছেন ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। এমনকি কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ অর্জন করার পরেও এই বঞ্চিত শিক্ষার্থীর তালিকায় রয়েছেন ২ হাজার ২০৫ জন তরুণ-তরুণী।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১১টি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থীই পছন্দক্রম বা চয়েজ দেয়নি। পাশাপাশি, ৪১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীকেই ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, এই বিপুল সংখ্যক কলেজ চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। মূলত আসন সংকট, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণের অভাব কিংবা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে তাদের ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশিত হবে এবং আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী মোট আসনের সাত শতাংশ কোটা হিসেবে সংরক্ষিত রেখে বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে সহজেই নিজেদের ফলাফল যাচাই করতে পারছেন।