July 3, 2026, 4:07 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
কাবা শরীফ তাওয়াফের ইতিহাস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ পাকিস্তানপন্থীদের মন্ত্রী-এমপি করেছে বিএনপি, ক্ষমা চাইব কেন: গোলাম পরওয়ার রাখাইনে সংঘাত, টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়াকড়ি কেপ ভার্দে ম্যাচে কীর্তির সামনে স্কালোনি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ডেল্টা অর্থনীতির জন্য ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক ঢাবি শিক্ষকদের শাস্তি দাবিতে সাদা দলের আলটিমেটাম ফুয়াদকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ছাত্রদলের মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ

১১ দিন নির্যাতনের পর জেল থেকে লাশের মতো বের হতে হয়েছে: সুরভী

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, January 7, 2026
  • 150 Time View
170

নিউজ ডেস্ক:
চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সদ্য জামিন পাওয়া জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী অভিযোগ করেছেন, তাকে ১১ দিন কারাগারে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তাহরিমা জান্নাত সুরভী বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ, এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত কিংবা গণঅধিকার পরিষদ—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমি একজন অরাজনৈতিক মানুষ। কিন্তু দেশের স্বার্থে সবসময় প্রতিবাদ করেছি। এত কিছুর পরও আমাকে ১১ দিন জেলে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।”

তিনি জানান, প্রথমে তাকে গাজীপুর জেলা মহিলা কারাগারে নেওয়া হয়। রোববার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার জামিন মঞ্জুর হওয়ার কথা থাকলেও সেখান থেকে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে আবার আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুক পুনরায় রিমান্ড আবেদন করেন।

সুরভী বলেন, “আমার আইনজীবীরা আদালতে আমার পক্ষে সব প্রমাণ উপস্থাপন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট যখন তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেন, জবানবন্দি ছাড়া আর কোনো প্রমাণ আছে কি না, তিনি স্বীকার করেন যে কোনো প্রমাণ নেই। তারপরও আমার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স মাত্র ১৭ বছর। এ ছাড়া, সামনে পরীক্ষা ছিল। এসব বিষয় আদালতে জানানো সত্ত্বেও আমাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর হলেও ১১ দিন পর আমাকে লাশের মতো করে জেল থেকে বের হতে হয়েছে। আমার কাছে জেল মানেই ছিল টর্চার (নির্যাতন)।”

সুরভী বলেন, “একদিন অনেক কষ্ট করে টাকা দিয়ে এক স্যারের মাধ্যমে আমার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছিলাম। সেদিন আমি মাকে বলেছিলাম— ‘আম্মু, হয়তো আমি দুনিয়াতে আর থাকব না’।”

তিনি অভিযোগ করেন, যে মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, সেখানে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মারধর ও চুরিসহ ছয়টি ধারা দেওয়া হয়েছে— যেগুলোর কোনোটিই তিনি করেননি। বারবার রিমান্ড চাওয়ার একটাই কারণ, আমি টাকা দেইনি।

সুরভী জানান, আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। তবুও রিমান্ড দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, “উপর লেভেল থেকে অর্ডার আছে। এই উপর লেভেলটা কে? তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই কীভাবে মামলা হয়? ১৭ বছরের একজন মেয়েকে কীভাবে রিমান্ড দেওয়া হয়?”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, কারাগারে তার সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তানজিলা তাবাসসুম নামের আরেকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, “তাকে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছে যে তার পরিবার কিংবা তার বিশ্ববিদ্যালয়— কেউ জানে না সে কোথায়। সেও আমাদের মতো প্রতিবাদী ছিল। আমাদের কণ্ঠ এভাবে রোধ করা হচ্ছে কেন?”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com