গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও মদদদানের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। একই সঙ্গে নিরপরাধ কোনো শিক্ষক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও জোর দিয়েছে সংগঠনটি। দাবি বাস্তবায়নে দুই সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাদা দলের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে সাদা দলের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষক অনেক শিক্ষক এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফার্মেসি অনুষদের একজন শিক্ষক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দাবি করেছেন, সাদা দল নাকি ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মতো গণহত্যা করতে চেয়েছিল। অথচ সাদা দল সবসময় শিক্ষকদের নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কোনো শাস্তি হয়নি। এ কারণেই তারা ভিত্তিহীন অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন। তাই সাদা দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার বলেন, নিরপরাধ কোনো শিক্ষক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও আমরা স্পষ্ট করেছি। যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের আগের কমিটিতে এমন কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন, যাদের কারণে ক্লাবের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়নি। এমনকি ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী ডিনারের আয়োজনও করা সম্ভব হয়নি।
সাদা দলের এই নেতা বলেন, আমরা দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না দেখা গেলে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।
এ বিষয়ে ঢাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমরা সাদা দলের দাবি শুনেছি। বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।