নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকায় বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে ধানের শীষের চার প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি আসন সমঝোতা হওয়া অন্য দুই দলের প্রার্থীর মার্কায়ও ভোট চান তিনি।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কট্টাপাড়া মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি ‘খেজুর গাছ’ ও ‘মাথাল’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। কিন্তু গত ১৫ বছর মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু ভোট নয়, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাকস্বাধীনতাও। তথাকথিত নির্বাচনে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।
তিনি বলেন, এই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই শহীদ হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সেদিন দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। তখনই স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের ভেতরের পাশাপাশি বিদেশেও ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ভোটারদের নিয়েও গভীর চক্রান্ত চলছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন সবাই ফজরের নামাজ পড়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন।
এলাকার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিএনপির চারজন প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে এবং শরিক দলের প্রার্থীদের খেজুর গাছ ও মাতাল মার্কায় ভোট দিতে হবে। তাহলেই এই এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহবুব শ্যামলের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের প্রার্থী মো. মুশফিকুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের প্রার্থী জুনায়েদ সাকি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের প্রার্থী এম. এ. হান্নান।
সভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।