যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে তেহরান আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত থাকলেও যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
জেনেভায় নির্ধারিত নতুন দফার আলোচনার আগে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অবস্থান তুলে ধরেন।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো হামলা, এমনকি তা যদি সীমিত আকারেরও হয়, তবে ইরান সেটিকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবেই বিবেচনা করবে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সীমিত হামলার সম্ভাবনা’ নিয়ে মন্তব্য করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কড়া সতর্কবার্তা এলো। বাঘাই আরও যোগ করেন, যেকোনো রাষ্ট্র তার স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং ইরানও ঠিক তাই করবে।
এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি সীমিত হামলার কথা বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা এখন পর্যন্ত ‘উৎসাহব্যঞ্জক ইঙ্গিত’ দিচ্ছে।
তবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় নির্ধারিত তৃতীয় দফার আলোচনার আগে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, তাঁর দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সুইজারল্যান্ডে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা গত মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ওমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেনেভায় পরবর্তী দফার আলোচনা নির্ধারিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। এই আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।