April 6, 2026, 10:17 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছরের দম্ভ চুরমার করে দিল ইরান ইরানে আগ্রাসনের কারণেই ‘জ্বলছে’ পুরো মধ্যপ্রাচ্য: রাশিয়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আবারও হতে পারে: হাসনাত আবদুল্লাহ বিধানসভার ফলাফলের পর হবে তৃণমূলের সব পাপের হিসাব: নরেন্দ্র মোদি ড. ইউনূসসহ ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ ‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই’, বহিষ্কারের পর ছাত্রদল নেতা পাইলটকে উদ্ধারের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান ট্রাম্পের ‘মানসিক ভারসাম্য’ নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন রাজনীতিতে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী পাকিস্তানের পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছরের দম্ভ চুরমার করে দিল ইরান

Reporter Name
  • Update Time : Monday, April 6, 2026
  • 9 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা লিবিয়া—বিগত তিন দশকে পেন্টাগন যেখানেই বিমান হামলা চালিয়েছে, প্রতিপক্ষ ছিল সামরিকভাবে দুর্বল। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত আমেরিকার সেই দীর্ঘদিনের ‘অজেয়’ আকাশশক্তির মিথ বা রূপকথাকে কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করেছে, প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতাও সব সময় যুদ্ধের ময়দানে জয় নিশ্চিত করতে পারে না।

পশ্চিম ইরানে আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ভূপাতিত হওয়া এই যুদ্ধের একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। যুদ্ধের স্কেল অনুযায়ী একটি বিমান হারানো বড় কোনো ক্ষতি মনে না হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রথম কোনো শত্রুদেশের আকাশসীমায় মার্কিন পাইলটচালিত যুদ্ধবিমান সরাসরি তাদের গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত হলো। যদিও পরবর্তীতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু এই একটি ঘটনাই ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

তবে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি কোনো দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই দিনে পারস্য উপসাগরের কাছে কুয়েতে ইরানের গোলার আঘাতে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ বিমানও ধ্বংস হয়েছে। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, স্টেলথ প্রযুক্তিহীন এবং নিচ দিয়ে ওড়া যুদ্ধবিমানগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন আমেরিকার আরও বেশ কিছু ‘উড়ন্ত বস্তু’ ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি পরিবহন বিমানও ছিল। ওই অভিযানে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার দাবিও করেছে তেহরান। এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধে উদ্ধার তৎপরতাও এখন কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছিল শত্রুরা—যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মার্কিন ক্রুপ্রায় কাছাকাছি চলে এসেছিল শত্রুরা—যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মার্কিন ক্রু
ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দেশটির অবকাঠামোতে নিয়মিত সফল হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ‘দুর্বল করা’ আর ‘পুরোপুরি ধ্বংস করা’ এক কথা নয়। ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আইএডিএস) বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেও টিকে থাকার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দেখিয়েছে। উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার সক্ষমতা এখনো তাদের রয়েছে, যা মার্কিন রণকৌশলকে ধীর করে দিচ্ছে এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

যুদ্ধের শুরুতে ইসফাহান ও বুশেহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আমেরিকার বেশ কিছু এমকিউ-৯ রিপার (অন্তত ১২ টি) ড্রোন ভূপাতিত করেছিল ইরান। ড্রোন হারানো রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল হলেও, এর আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি উপেক্ষা করার মতো নয়। এর ফলে গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, একটি চালকযুক্ত বিমান হারানো মানেই হলো উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ জনমত ও পাইলট বন্দী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।

আমেরিকার সামরিক ডকট্রিন বা মূলনীতির ভিত্তি হলো আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য। কিন্তু বর্তমান সংঘাত দেখাচ্ছে যে, আধিপত্য মানেই ‘অজেয়’ হওয়া নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ইরান সংঘাতও দেখিয়ে দিচ্ছে, সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানেই হলো জানমালের ক্ষয়ক্ষতি। আকাশ এখন আর কেবল আমেরিকার একার নয়; এটি এখন গতিশীল এবং ক্ষমাহীন এক রণক্ষেত্র।

এই পরিস্থিতিতে পেন্টাগন এখন স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করার প্রযুক্তিতে আরও জোর দেবে। ‘লোয়াল উইংম্যান’ বা এআই চালিত ড্রোনের ব্যবহারও বাড়বে। তবে কেবল আকাশশক্তি দিয়ে যুদ্ধ জয় সম্ভব নয়; এর সঙ্গে সাইবার অপারেশন, গোয়েন্দা তথ্য এবং কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয় জরুরি।

সবশেষে, ৩ এপ্রিলের এই ক্ষয়ক্ষতি আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ না করলেও তাদের ‘অনায়াস আধিপত্যের’ অহমিকা ভেঙে দিয়েছে। আধুনিক যুদ্ধ যে কতটা অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ, ইরানের পাহাড়গুলো আজ সেই সত্যই বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com