আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত আইএমএফের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধাক্কা কাটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীলতায় ফিরেছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে সেই স্থিতিশীলতা আবার ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতি থেমে গেছে।
সংস্থাটির মতে, জ্বালানি তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কাও সৃষ্টি হতে পারে।
‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে সংস্থাটি এসব তথ্য প্রকাশ করে। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ে গুরিনশাস বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খারাপ হয়েছে এবং পূর্বের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাধা তৈরি হয়েছে।
আইএমএফ জানায়, যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী হলেও ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, কিছু সপ্তাহ আগেও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল বাণিজ্য উত্তেজনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং আর্থিক ভারসাম্যহীনতা। কিন্তু এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এর জ্বালানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব।
যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৮০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সার উৎপাদনের খরচও বেড়ে গেছে। এসবের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে চাপ তৈরি করছে।
আইএমএফ বিভিন্ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেছে, সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি দুই শতাংশে নেমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে হবে। যার ফলাফল স্বরুপ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
যুদ্ধ যদি তুলনামূলক ভালো পরিস্থিতিতে দ্রুত শেষ হয় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হয়, তবুও জ্বালানি পণ্যের দাম এ বছর প্রায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে খরচের চাপ অব্যাহত থাকবে।
আইএমএফের মতে, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের দেশ ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
তবে উন্নত অর্থনীতির দেশ তুলনামূলক ভালো থাকলেও তারাও প্রভাবমুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বলে আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে।