July 1, 2026, 6:47 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার হুমকি, ‘পোষ্যদের’ শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশ সমর্থন করে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমরা বলেছি সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করবো, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয়:জামায়াত আমির রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতাও চেক করতে পারবে: শিক্ষামন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ জামায়াতের ছায়া বাজেট আর পাস হওয়া বাজেট কাছাকাছিই: শফিকুর রহমান ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই অভ্যুত্থানে: রিজভী বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা স্বাধীনতার বিরোধিতার দায়ে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার

বাজেটে শ্রমিক বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে: মুজিবুর রহমান

Reporter Name
  • Update Time : Monday, May 18, 2026
  • 57 Time View
64

জাতীয় বাজেটে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘শ্রমিকের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কবির আহমেদ, গোলাম রাব্বানী, মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, মুহিবুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু ও প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান।

মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে শ্রমিক অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রতিটি সরকারই শ্রমজীবী মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তার দাবি, গত ৫৪টি বাজেটেই শ্রমিকদের জন্য কার্যকর ও ন্যায্য বরাদ্দ নিশ্চিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বাজেট মূলত রাষ্ট্র পরিচালনাকারী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যকার বার্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি। অথচ বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি বা শ্রমজীবী মানুষের মতামত গুরুত্ব পায় না। শ্রমিক কল্যাণ খাতে বরাদ্দও খুবই সীমিত রাখা হয়।

আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে উল্লেখ করে এমপি বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক সমাজ। তাই বাজেট প্রণয়নে তাদের মতামত, অধিকার ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শ্রমিকের মর্যাদা প্রসঙ্গে ধর্মীয় উদ্ধৃতি তুলে ধরে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ইসলাম শ্রম ও শ্রমিককে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ ৫৪টি বাজেট পেলেও শ্রমিকদের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়নি। সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতের কথা বলা হলেও বাস্তবে তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক শ্রমবাজারে যুক্ত হলেও গত পাঁচ বছরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে বৈষম্যহীন বাজেট প্রত্যাশা করে আগামী জাতীয় বাজেটে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।

সাড়ে ৭ কোটি শ্রমিকের খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস ঐক্য জোটের সভাপতি মোহাম্মদ মেহতাব, প্রগতিশীল নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরী, বি আর ই এল-এর কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ রেনারেল আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের নেত্রী শামীমা আক্তার, গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের নেত্রী রাশিদা আক্তার, বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি এফ এম আবু সায়ীদ, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা, কামরাঙ্গীচর রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন সহ-সভাপতি সাহিদা সরকার, শ্রমিক মজলিস সাধারণ সম্পাদক এইচ এম এরশাদ, ঢাকা ওয়াসা ঢাকা মহানগরী উত্তরের শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ মুন্সী।

আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সালেহা ইসলাম শান্তা, বাংলাদেশ  পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বেপারী, বাংলাদেশ অটো রিক্সা হালকাজান  পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক, প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কামরুন্নাহার, ডেসকো শ্রমিকনেতা শেখ আব্দুল্লাহ, ডেসকো আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ টি অ্যান্ড টি শ্রমিক কর্মচারী আদর্শ ফেডারেল ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com