বরিশাল নগরীতে অগ্রণী হাউজিং অফিসে ঢুকে এমডিকে মারপিট করেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক যুবদল নেতা। ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া
বরিশাল নগরীতে একটি আবাসন (হাউজিং) ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অফিসে ঢুকে অবরুদ্ধ করে নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সেই শিউরে ওঠা সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম আব্দুল আজিজ হাওলাদার। তিনি নগরীর সদর রোডে অবস্থিত ‘অগ্রণী হাউজিং লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই ঘটনায় তিনি ইতোমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেছেন।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর আব্দুল আজিজের ব্যক্তিগত কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। রুমে ঢুকেই তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক ব্যক্তি ওই ব্যবসায়ীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে চরমভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে নির্যাতন করা হয়। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করা হয়।
নির্যাতনের সময় ভুক্তভোগীকে বাঁচানোর জন্য ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। পরে অন্য একজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেই চেকে সই করার দৃশ্যটি অভিযুক্তরা নিজেদের মোবাইলেও ধারণ করে।
কৃষকলীগ নেতাকে আটকের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জানান, অভিযুক্ত লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দেওয়া হয় এবং কোনো পাওনা নেই মর্মে একটি অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু অন্যায়ভাবে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অফিসে ঢুকে মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, আরেকটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী আজিজ আরও জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংকে লিখিতভাবে অবহিত করায় ওই চেক দিয়ে টাকা তুলতে পারেনি অপরাধীরা। সিসিটিভি ফুটেজটি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলে স্বীকার করেন।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। তবে লিটু তার বিরুদ্ধে আনা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং এ বিষয়ে তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন।
এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন জানান, কেউ অপরাধ করলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত, এভাবে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা মোটেও কাম্য নয়। ঘটনার সাথে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালত মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আদালতের আদেশের কপি হাতে পেলেই পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।