কেরালার কান্নুর জেলার পানুরের বাসিন্দা শিরিনের সঙ্গে চিকিৎসক রিজাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে। ক্যাটারিং দলের এক নারীর নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয় এবং আরেকজন মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার কথা জানান। শিরিন চিকিৎসক এ কথা জানতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে। তাই পরিস্থিতি দেখে তাঁকে সাহায্যের জন্য ডাকা হয়।
শুক্রবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে শিরিন বলেন, ‘সবাই জানতেন আমি একজন চিকিৎসক। তাই একজন এসে আমাকে পরিস্থিতি দেখতে বললেন। সেখানে গিয়ে যা করা দরকার ছিল, আমি সেটাই করেছি।’
শিরিন বর্তমানে ওয়াটপালের ভালুভানাদ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাবিদ্যায় প্রথম বর্ষের এমডি শিক্ষার্থী। অসুস্থ দুই নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এমন প্রস্তুতি রেখে তিনি ঘটনাস্থলেই তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
নাক দিয়ে রক্তপাত হওয়া নারীকে সামনের দিকে ঝুঁকে বসতে বলেন শিরিন। একই সঙ্গে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে নিতে নাকের নরম অংশ ১০ থেকে ১৫ মিনিট শক্ত করে চেপে ধরে রাখার পরামর্শ দেন। দুর্বল ও মাথা ঘোরার সমস্যায় ভোগা অন্য নারীকে পা উঁচু করে শুইয়ে দেওয়া হয়। শিরিন বলেন, ‘এগুলো প্রাথমিক পদক্ষেপ। প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়, এরপর প্রয়োজন হলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয়।’
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। অনলাইনে ঘটনাটি ব্যাপক প্রশংসা পেলেও শিরিন একে অসাধারণ কিছু বলে মনে করেন না। তাঁর ভাষায়, ‘এটা মোটেও বড় কোনো ব্যাপার নয়। রাস্তায় কাউকে পড়ে যেতে বা জ্ঞান হারাতে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা প্রতিক্রিয়া জানাই। আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হলে সেখানেই তা করি, এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
ঘটনাটি রেকর্ড করা হচ্ছিল সে সময় তা বুঝতে পারেননি বলেও জানান শিরিন। ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতদের কাছ থেকে সেটি পান তিনি। ‘অনেকেই ভিডিওটি আমাকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার সময় কাউকে ভিডিও করতে দেখিনি। এটা কেবল আমাদের কর্তব্য ছিল, এর বেশি কিছু নয়,’ বলেন তিনি।
সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন শিরিন। বিশেষ করে যেসব জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দ্রুত কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন শিরিন। তাঁর মতে, জরুরি অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেরি হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। শিরিনের স্বামী ডা. রিজাও চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি অঙ্গ প্রদানে অর্থোপেডিক্সে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করছেন। রিজা বলেন, ‘জরুরি চিকিৎসা বিভাগের বিশেষজ্ঞদের এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রবণতা থাকে।’
নবদম্পতির মতে, ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান থাকলে হাসপাতাল বা চিকিৎসক থেকে দূরে থাকা অবস্থাতেও যে কেউ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।