শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বের নিদর্শন বা কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যম হিসেবে বিরল বন্যপ্রাণী উপহার দিয়ে আসছে। সময়ের বিবর্তনে এই রেওয়াজটি এখন অনেকটাই বদলে গেছে এবং বন্যপ্রাণী উপহার দেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় বেশ কমে এসেছে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি মূলত চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
আধুনিক যুগে বেশিরভাগ বিরল প্রাণী প্রাকৃতিকভাবে মুক্ত পরিবেশে নয়, বরং বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানার কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থার মাধ্যমেই জন্মলাভ করে। তবে দৈত্যাকার পান্ডার ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিয়মের সাথে এর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এর মূল কারণ হলো, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ কখনো কোনো জায়ান্ট পান্ডার স্থায়ী মালিকানা লাভ করতে পারে না।
পৃথিবীর যেখানেই কোনো পান্ডা জন্মাক না কেন, তার আইনগত মালিকানা সবসময় চীনের সরকারের পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চিড়িয়াখানাগুলোতে যে পান্ডাগুলো দেখা যায়, সেগুলোর ওপরও বেইজিংয়ের পূর্ণ মালিকানা বজায় থাকে। মূলত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এই পান্ডাগুলোকে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ সাপেক্ষে অন্যান্য দেশের দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হয়ে থাকে।
একটি নির্দিষ্ট সময় পর বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেই পান্ডাগুলোকে আবার তাদের জন্মভূমি চীনে ফিরিয়ে দিতে হয়। এমনকি অন্য দেশের চিড়িয়াখানায় কোনো পান্ডাশাবকের জন্ম হলেও তার ওপরও মালিকানা দাবি করতে পারে না সংশ্লিষ্ট দেশ। কঠোর এই ব্যবস্থার কারণেই পান্ডার মতো আকর্ষণীয় ও বিরল প্রাণী শুধু চীনেই পাওয়া যায় এবং এর সমস্ত নিয়ন্ত্রণ দেশটির হাতেই থাকে।