জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে বা জাল নথিপত্র তৈরি করে তারা টেন্ডার জালিয়াতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসতেন। এই চক্রের মূল হোতা ফয়সাল করিম মাসুদ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।
এদিকে শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্তের এমন বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন যৌথভাবে অপরাধীদের সমস্ত অবৈধ নেটওয়ার্ক ভাঙার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দিষ্ট আইনে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হবে। মামলার পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনার সাথে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।