দেশের বাজারে ডিমের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিমের জন্য ক্রেতাদের প্রায় ১৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এক হালি ডিম কিনতে গেলে গুণতে হচ্ছে ৫৫ টাকা পর্যন্ত, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ সংকট এবং সিন্ডিকেটের কারসাজি কাজ করছে। অথচ দেশের বাইরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন ও জনবান্ধব। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিশেষ করে কলকাতায় প্রতি ডজন ডিমের দাম রাখা হচ্ছে মাত্র ১১৫ টাকা।
এই হিসাব অনুযায়ী ভারতে একটি ডিমের খুচরা মূল্য ১০ টাকার অনেক নিচে অবস্থান করছে। এমনকি পাকিস্তানের বাজারেও ডিমের দাম এই সীমার মধ্যেই রয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ তুলনামূলকভাবে ছোট অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে আমিষের এই সহজলভ্য উৎসের দাম রেকর্ড গড়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই চড়া দামে ডিম কিনতে হচ্ছে তাদের। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কঠোর মনিটরিং বা তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে।
পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত ডিমের দাম এভাবে নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।