October 10, 2026, 11:01 am

‘তারেক রহমান, আপনার দলের ধ্বংস নিশ্চিত’—সরাইলে বিএনপি নেতার ফেসবুক পোস্ট

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 10, 2026
  • 19 Time View

রাজনীতি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে সুবিধাভোগী এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের বেশ কয়েকজন পদধারী নেতা। বিশেষ করে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। স্থানীয় রাজনীতিতে এই ডিলার নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ এখন দলের ভেতরে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা জামাল হোসেন লস্কর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে একটি কঠোর স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দুঃসময়ে রাজপথে থাকা ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধআওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং জুলাই আন্দোলনের মামলার আসামিদের ডিলার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই বিষয়ে চুন্টা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমও ফেসবুকে নিজের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, দলের জন্য দীর্ঘদিন মামলা ও হয়রানির শিকার হলেও তাকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়নি, অথচ দলের কার্যক্রমে অতীতে যাদের দেখা যায়নি তারা এই সুবিধা পাচ্ছে।

ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা জামাল হোসেন লস্কর সংবাদমাধ্যমকে জানান, দলের জন্য তিনি বহু মামলা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং পেশাগতভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু এত ত্যাগের পরও আওয়ামী লীগ ঘরানার একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে বাছাই করা অত্যন্ত হতাশা ব্যঞ্জক। এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে কৃষকরা হয়রানির শিকার হবেন এবং দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির প্রবীণ সভাপতি আনিসুল ইসলাম ঠাকুর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন দলের অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, সার ডিলার নিয়োগে স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুল ইসলাম ঠাকুর। তার ভাষ্যমতে, কৃষি অফিস নিয়ম অনুযায়ী আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়েছে এবং সেখান থেকেই ডিলার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরাম হোসেন বর্তমানে অন্য কর্মস্থলে বদলি হয়ে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সরাইল উপজেলায় সার বরাদ্দ ও ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের এই ঘটনা স্থানীয় কৃষক ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com