October 11, 2026, 7:38 am

জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতে আসছে জাতীয় রোডম্যাপ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 11, 2026
  • 18 Time View

স্বাস্থ্য ডেস্ক: যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা সংকটকালে দেশে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে একটি বিশেষ জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ওষুধ খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরো শক্তিশালী করতে এই পরিকল্পনা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধান প্রধান ওষুধের ন্যূনতম বাফার স্টক বা মজুত নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় দেশের ওষুধ খাতের বর্তমান সক্ষমতা ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বা এসেনশিয়াল মেডিসিনস লিস্ট হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিষদ। এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে প্রধান করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আমদানিনির্ভরতা কমাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এপিআই শিল্প পার্কটি দ্রুত চালুর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হলেও কাঁচামালের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির জানান, ওষুধ তৈরির মূল কাঁচামাল বা এপিআইয়ের ৯০ শতাংশের বেশি এখনো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা খাতটিকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই সংকট কাটাতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য অন্তত ২০ থেকে ৩০টি অত্যাবশ্যকীয় এপিআইয়ের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এপিআই অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়েট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়লে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

ওষুধ খাতের আন্তর্জাতিক মান উন্নয়ন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং টুলের ম্যাচুরিটি লেভেল-৩ অর্জনের বিষয়গুলোও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, গবেষণায় তহবিল বরাদ্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। প্রস্তাবিত এই রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে মহামারি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করছেন নীতিপ্রণেতারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com