October 11, 2026, 3:10 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
ব্রিটেনের ১৭৭ বছরের পুরোনো বুটস কিনছেন কানাডার ধনকুবের, আসছে যেসব পরিবর্তন বিবিসি বাংলার ৮৫ বছর: রেডিও থেকে স্মার্টফোনের পর্দায় বিশ্বাসের এক দীর্ঘ যাত্রা আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে ন্যাশনাল ব্যাংকের আবেদন গ্রহণ শুরু কুমিল্লায় সরকারি দেয়াল ভেঙে ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ দুর্গাপূজায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জাতীয় যুবশক্তির আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা সরকারের আয়াশসহ চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো এবার কেনিয়ায় টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন রপ্তানি করবে ওয়ালটন ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ অযৌক্তিক

আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা সরকারের

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 11, 2026
  • 12 Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: বিদেশ থেকে আদা আমদানির বিপুল পরিমাণ ব্যয় কমাতে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশেই এই মসলা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটাতে হয় আমদানির ওপর নির্ভর করে, যার পেছনে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চীন, ভারত, মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশ থেকে মসলা আমদানির পেছনে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় হওয়ায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে বিশেষ প্রকল্পসহ নানা ধরনের কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দেশের নিজস্ব জমিতে আদার ফলন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটি থাকা সত্ত্বেও উন্নত জাতের বীজের অভাব, দীর্ঘ ফসলচক্র এবং বিভিন্ন রোগবালাইয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া এতদিন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে প্রতি হেক্টর জমিতে যে পরিমাণ আদা উৎপাদিত হতো তা দিয়ে দেশের মোট চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার উচ্চফলনশীল জাতের চাষ বৃদ্ধি, মানসম্মত বীজ সরবরাহ, পাহাড়ি অঞ্চলে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে লাভজনক করার চেষ্টা চলছে।

উৎপাদন বাড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর কেড়েছে প্লাস্টিকের বস্তায় আদা চাষের আধুনিক ও লাভজনক পদ্ধতিটি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনস্থ বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের নিরলস কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। বারি-২ ও বারি-৩ এর মতো উচ্চফলনশীল জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়ির আঙিনায় বা ছোট পরিসরে খুব সহজেই কাঙ্ক্ষিত আদা ফলানো সম্ভব হচ্ছে। মাত্র অল্প পরিমাণ বীজ রোপণ করে বস্তাপ্রতি আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে এই চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের কৃষকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি জাতীয় উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয় কৃষকদের অনেকেই বস্তায় আদা চাষ করে ইতোমধ্যে সফলতার মুখ দেখেছেন এবং ভালো মুনাফা অর্জন করছেন। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা তাদের অব্যবহৃত জমিতে বা বাড়ির আশপাশে এই পদ্ধতিতে চাষ শুরু করে দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট আবাদি জমির খুব সামান্য অংশেই মসলা চাষ হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বিগত বছরগুলোতে উৎপাদন যথেষ্ট বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে বস্তা পদ্ধতির জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে, তাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশ আদা উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com