জাতীয় ডেস্ক: নরসিংদীর সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় অবস্থিত প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও নিজের অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে এই বিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছেন আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া। দুই হাত না থাকার কারণে জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো দমে যাননি, বরং পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করে সমাজ গঠনে ব্রতী হয়েছেন। তাঁর এই সংগ্রামের গল্প এবং একাটার শৈল্পিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে কোমলমতি শিশুদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান। এ সময় তাঁর সঙ্গে নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার এবং সহকারী কমিশনার ভূমি মেফতাহুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রধান শিক্ষক দুঃখু মিয়ার শিক্ষাদানের অনন্য পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দশজন শিক্ষক ও প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাগ্রহণ করছে।
খুদে শিক্ষার্থীদের আনন্দ দিতে জেলা প্রশাসক তাদের মাঝে নতুন স্কুলব্যাগ, বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়াসামগ্রী এবং পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে গাছের চারা বিতরণ করেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়টির তহবিলে কিছু নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোনো অনুদান ছাড়াই অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধায় চলা এই বিদ্যালয়টির নিবন্ধন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। তিনি স্পষ্ট জানান যে, দুঃখু মিয়ার এই মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে।
প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া তাঁর জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে জানান যে, দাদা ভালোবেসে তাঁর নাম রেখেছিলেন দুঃখু মিয়া, যদিও তাঁর জীবন আজ সফলতার আলোয় উদ্ভাসিত। জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া মন্তব্য করেন যে, দুঃখু মিয়া কেবল নরসিংদীর নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রেরণার উৎস। ভবিষ্যতে এই কিন্ডারগার্টেনটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করার যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।