রাজনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের দিকে এগিয়ে গিয়ে কিছু লোক বিক্ষোভ দেখান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একদল প্রবাসী ব্যক্তি উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে তাঁকে নানা ধরনের কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক কথা বলছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি এই অনভিপ্রেত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, ড ইউনূসের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তির সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি ওই রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী রাজনীতির অমানবিক রূপটিকে আবারও স্পষ্ট করেছে। এ দেশের মানুষের কাছে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও তাদের আচরণ ও মানসিকতায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি বা পূর্বের অপরাধের জন্য তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও তাদের এই অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই ধরনের ফ্যাসিবাদী অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে কঠোরভাবে রুখে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা। তিনি আরও দাবি জানান যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলের গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও সন্ত্রাসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অবিলম্বে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার জোর দাবি জানান তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের চরম সংকটের সময়ে নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ড ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাই দেশের এই বরেণ্য ব্যক্তিসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।