October 14, 2026, 7:48 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
সুখে থাকতে আসলে কী লাগে? পূজার ছুটিতে সাজেক কি খুলবে, যা জানা গেল দুর্গোৎসবের আবাহনে শরৎ, স্মৃতির অলিন্দে চরনারচর চলচ্চিত্রে দ্বিতীয় ইনিংসের প্রস্তুতি ফারুকীর, জানালেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের কথা পূজার ছুটিতেই বদলে ফেলুন সকালের অভ্যাস; জেনে নিন, সকালে যা করবেন, যা করবেন না আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন, বিশ্বমঞ্চে বাড়বে দেশীয় শেফদের সুযোগ ‘জীবনবদলের রেসিপি’ থিমে সেরা রাঁধুনী সিজন ৯ শুরু শীতের আগেই ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব বাজার সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের নবীজির নেতৃত্বের মৌলিক ১২ গুণ

শীতের আগেই ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব বাজার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 14, 2026
  • 16 Time View

জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন শীত মৌসুমের আগেই ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব হয়ে গেছে। অথচ এই সময়েও গাছিরা গাছ কাটা কিংবা রস সংগ্রহের কোনো প্রস্তুতি নেননি। এর আগেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আসল রসের কোনো প্রকার সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে কৃত্রিম উপায়ে এই ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। দেখতে অবিকল আসল গুড়ের মতো মনে হলেও এসব পণ্যে নানা বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি তৈরি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিবছর এই অঞ্চলে খেজুর গাছের সংখ্যা কমতে থাকলেও অবৈধ উপায়ে ভেজাল গুড় উৎপাদনের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা গোপন কারখানাগুলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত এসব ভেজাল গুড় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে চন্দ্রপাড়া ও আটরশি দরবার শরিফের বিভিন্ন বার্ষিক ওরস ও মাহফিলকে কেন্দ্র করে এই অসাধু চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং রাতারাতি শত শত কেজি গুড় তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভেজাল গুড় তৈরির প্রধান উপাদানের মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত ভারতীয় চিনি, পচা ও পুরাতন গুড়, টেক্সটাইল কালার, আটা, চুন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। বর্তমানে সদর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে মাত্র ১৫০ টাকা কেজিতে এই গুড় বিক্রি করা হচ্ছে। কম দামের কারণে নিম্নবিত্ত ও অসচেতন ক্রেতারা না বুঝেই তা কিনে খাচ্ছেন এবং অজান্তেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন, যেখানে প্রকৃত খাঁটি খেজুর গুড়ের প্রতি কেজির দাম প্রায় সাতশ টাকা।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা অবশ্য তাদের এই কর্মকাণ্ডের পক্ষে অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে বলছেন যে, প্রাকৃতিক কারণে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত রস না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে চিনি ও কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, কেমিক্যাল মিশ্রিত এই ভেজাল গুড় খাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের আলসার, ডায়রিয়া ও কলেরার মতো পেটের জটিল রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে কিডনি, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও লিভার ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদরপুর উপজেলা শাখা। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অচিরেই এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ক্রেতাদেরও ভেজাল গুড় কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com