October 17, 2026, 10:09 am

মাথাপিছু তিন হাজার ডলার আয়ের দেশে মানুষ কেন হাঁপাচ্ছে

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 17, 2026
  • 17 Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: কাগজে-কলমে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়লেও এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়ছে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাথাপিছু আয় তিন হাজার ডলার অতিক্রম করলেও খেটে খাওয়া মানুষের বাজারের থলে ছোট হয়ে আসছে এবং সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মূলত আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য অনেক দ্রুত বৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানে আয়ের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।

অর্থনৈতিক সূচকের এই বৈপরীত্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির পরিসংখ্যানটিতে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের একটি বড় অংশের মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে এবং বেকারত্বের হারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ সমাজের একটি বিশাল অংশ উপযুক্ত কাজের সুযোগ না পেয়ে বেকার জীবন কাটাচ্ছে, যা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এর পাশাপাশি শিল্প খাতের স্থবিরতা ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে।

উৎপাদনমুখী খাতের এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বহুমুখী চাপ। বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে সরকার বারবার জ্বালানি ও সেবার দাম বাড়ালেও এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে কৃষি উৎপাদন ও পণ্য পরিবহনের ওপর। ফলে চাল, ডাল থেকে শুরু করে প্রতিটি খাবারের উপকরণের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির এই লাগামহীন গতির কারণে শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের সঞ্চয় ভেঙে এবং ঋণ করে কোনোমতে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ব্যাংক খাতের চরম বিশৃঙ্খলা এবং সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে, যা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে স্থবির করে রেখেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ঋণের পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় বাজেটের একটি বিরাট অংশ চলে যাচ্ছে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধে। এই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দ্রুত দূর না করলে বড় বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও ঘনীভূত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com