October 18, 2026, 8:48 am

কারাগারে থেকেও যুবলীগের মিছিলে!

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 18, 2026
  • 17 Time View

অপরাধ ডেস্ক: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে এক চুল ব্যবসায়ীকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক যুবদল কর্মী এবং পুলিশের যোগসাজশে ওই ব্যবসায়ীকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান উপজেলার কলমা ইউনিয়নের চন্দনকৌঠা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন চুল ব্যবসায়ী। স্থানীয়ভাবে নারীদের ঝরে পড়া চুল সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেছেন। অথচ সম্প্রতি তাঁকে এমন একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে, যে ঘটনার সময় তিনি নিজেই কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন স্থানীয় যুবদল কর্মী ইমরান আলী হাফিজুরের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি দেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ওই যুবদল কর্মী ও তাঁর সহযোগীরা ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো পরবর্তীতে পুলিশ গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় এবং গত জুন মাসে দায়েরকৃত একটি রাজনৈতিক সংঘাতে ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। ওই মামলায় ২১ দিন কারাভোগের পর জামিন লাভ করেন ওই ব্যবসায়ী।

এদিকে কারামুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসের এক রাতে তানোর উপজেলার একটি এলাকায় যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে সংঘটিত একটি মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলাটি করেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক। ২২ জনের নাম সংবলিত ওই মামলার ৯ নম্বর আসামি করা হয় হাফিজুর রহমানকে। অথচ কারাগারের রেজিস্টার ও কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিছিলের নির্দিষ্ট সময়ে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের মুক্তি শাখায় বন্দি অবস্থায় ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দেখতে পান যে তিনি ইতোমধ্যে আরেকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়ে গেছেন।

নিজের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল কর্মী ইমরান আলী সব ধরনের চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে এটিকে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অদ্ভুত এক মন্তব্য করেছেন। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মামলার আসামি করার বিষয়টিকে তিনি নিছক একটি টাইপ মিস্টেক বা লিপিগত ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পুলিশের এই কর্মকর্তার দাবি, পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে নির্দোষ প্রমাণিত হলে ওই ব্যবসায়ীকে মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে এ ধরনের ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ওই ব্যবসায়ী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com