October 18, 2026, 1:54 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
‘সবার আগে দেশ নয়, এখন সবার আগে বিএনপি’: আব্দুস সাত্তার এমপি ২০২৭ সালের এসএসসির ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা, পরীক্ষার্থীদের যে ৬ নির্দেশনা জানা জরুরি এআইয়ের যুগে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপায় অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে এখন একটা বড় ধাক্কা দরকার মাতারবাড়ি হয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে সমুদ্রপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সম্মিলন ২৮ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন করে স্বাক্ষরের চিন্তা আত্মঘাতী মেটার গিটহাবে হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ, ১৫০০ ব্যক্তির তথ্য ফাঁস মানুষের চিন্তাশক্তি বদলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন করে স্বাক্ষরের চিন্তা আত্মঘাতী

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 18, 2026
  • 17 Time View

রাজনীতি ডেস্ক: দীর্ঘ তিন দশক ধরে কার্যকর থাকা গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে চলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটির ভবিষ্যৎ ও এর নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নদী-গবেষক এবং রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের জেরে চুক্তিটির নবায়ন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই চুক্তি নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ও আপত্তি তোলার বিষয়টি এখন বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নদী বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নে বর্তমান চুক্তির বেশ কিছু বড় ধরনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক নদীর ক্ষেত্রে চুক্তিগুলো স্থায়ী কিংবা অন্তত ৭৫ থেকে ১০০ বছরের মেয়াদি হয়ে থাকে, অথচ গঙ্গা চুক্তিটি মাত্র ৩০ বছর মেয়াদি করা হয়েছিল। এছাড়া গঙ্গা অববাহিকায় নেপাল ও চীনের মতো দেশগুলোর অংশ থাকলেও এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় রাখা হয়েছে, যা একটি বড় ত্রুটি। এমনকি ফারাক্কা পয়েন্টে প্রবাহ মাপা হলেও তার উজানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে numerous পানি প্রত্যাহার প্রকল্প থাকায় নদীর প্রকৃত হিসাব এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

চুক্তির মেয়াদে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব করলে দেখা যায়, ফারাক্কার কারণে গঙ্গায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গড়াইসহ বহু শাখা নদী আজ মৃত প্রায়। সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় লবনাক্ততা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গাছপালায় রোগ দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পলি জমার কারণে নদী ভরাট হয়ে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়া ছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন ও মৎস্যসম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অতীতের ১৯৭৭ সালের চুক্তি এবং ১৯৯৬ সালের চুক্তির কোনোটিতেই নদী প্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ কোনো সুরাহা হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

এমন বাস্তবতায় গঙ্গা চুক্তি কেবল নবায়ন করার চিন্তা করাকে সম্পূর্ণ আত্মঘাতী বলে মনে করেন নদী গবেষক শেখ রোকন। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে চুক্তি বাতিল বা নতুন করে জটিল শর্তে যাওয়ার চেয়ে, আঞ্চলিক সব দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি ত্রিপক্ষীয় বা সর্বসম্মত স্থায়ী চুক্তি করার ওপর জোর দেওয়া উচিত। নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষা এবং সামগ্রিক অববাহিকার ভারসাম্য বজায় রাখতে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও বেশি কার্যকর ও কৌশলগত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com