October 19, 2026, 2:16 am
সর্বশেষ সংবাদ:

দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে মুখ্য: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Monday, October 19, 2026
  • 8 Time View

জাতীয় ডেস্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এবং গত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে লড়াই করেছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মহাখালী, গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্জনে সব নাগরিকের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন করার লড়াই হয়েছিল, তখন কেউ নিজের ধর্মের কথা চিন্তা করেনি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত দেশপ্রেমিক নাগরিকরা সেদিন যৌথভাবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে যখনই দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের ভোটাধিকার এবং বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করেছে। আর এসব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও মানুষের ধর্মীয় পরিচয় কখনোই কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ঐতিহাসিক দিনগুলোতেও দলমত ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কে কোন ধর্মের অনুসারী, তা না দেখে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছিল। এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সম্প্রীতি ও সংহতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি। দেশের স্বার্থে এবং উন্নয়নের স্বার্থে আগামী দিনগুলোতেও নাগরিকদের এই ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

দেশ গড়ার চলমান ও ভবিষ্যৎ সংগ্রামে সবাইকে নাগরিক পরিচয়কে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে ভবিষ্যতে দেশ গঠনের কাজে কারও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না, বরং প্রত্যেকেই এ দেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ দেশের মাটিতে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতির আবহ বজায় রাখা আবশ্যক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com