October 21, 2026, 8:59 pm

চন্দ্রনাথ ধামে উন্মোচন হয়নি সম্ভাবনার দুয়ার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 21, 2026
  • 13 Time View

জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম পাহাড়-ঝরনা এবং বঙ্গোপসাগরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। শিবচতুর্দশীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে এখানে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। তবে ধর্মীয় গুরুত্ব এবং অপার পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই তীর্থকেন্দ্রটির পরিকল্পিত উন্নয়ন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি হলো চন্দ্রনাথ ধামকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় তীর্থক্ষেত্র হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হোক, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও খাড়া পথ পাড়ি দেওয়া বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই পাহাড়ি পথে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, কার্যকর দিকনির্দেশনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারসেবার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোতে অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামলানো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি পর্যায়ে কিছু নির্দেশনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট চিত্র বা সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য সাধারণ মানুষের জানা নেই।

পাহাড়ে ওঠার কষ্ট লাঘব করতে সম্প্রতি আধুনিক লিফট স্থাপনের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাহাড়ের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত লিফট স্থাপন এবং সিঁড়িগুলো আধুনিক ও নিরাপদ করার এই উদ্যোগের কথা জানানো হলেও তা কতদূর এগোলো তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রকল্পে রূপ নিয়েছে কি না, এর সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না কিংবা অর্থায়ন কীভাবে হবে—সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ এবং সার্বিক নিরাপত্তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই যেকোনো বড় ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সম্প্রতি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই তীর্থকেন্দ্রের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সার্বিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, চন্দ্রনাথ ধামকে জাতীয় তীর্থক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে এর ঐতিহ্য যেমন সংরক্ষিত হবে, তেমনি ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসারিত হবে। তবে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে গিয়ে যেন পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও পাহাড়ি ঝরনা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পাহাড়ি পথের আধুনিকায়ন ও সিঁড়ি সংস্কার, জরুরি চিকিৎসা সেবা জোরদার এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কেবল আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, সঠিক অর্থায়ন এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে এই তীর্থকেন্দ্রের আধুনিকায়ন দেখতে চান সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীরা। ঐতিহ্য রক্ষা এবং পর্যটন সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য এখন কেবল সঠিক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও তার দ্রুত বাস্তবায়নের অপেক্ষা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com