October 22, 2026, 12:04 am
সর্বশেষ সংবাদ:
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের ইতিহাস সংকলনের উদ্যোগ দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের ‘তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবায়ন করেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তার প্রমাণ’ শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ ভেপিং ছেড়েছেন সেলেনা, বড় ক্ষতি হয়েছে জানালেন নিজেই সাজেকে ভ্রমণ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা বিসর্জনের অশ্রুতে ঐতিহ্যের বাঁধন, ঘিওরে ২০২ বছরের সম্প্রীতির মেলায় মানুষের ঢল মানহীন বাল্বে সয়লাব বাজার, ঝুঁকিতে ব্যবহারকারীরা প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় দুর্গোৎসব

বিসর্জনের অশ্রুতে ঐতিহ্যের বাঁধন, ঘিওরে ২০২ বছরের সম্প্রীতির মেলায় মানুষের ঢল

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 21, 2026
  • 17 Time View

জাতীয় ডেস্ক: ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও আনন্দের বাঁধনে সবাই একাকার হয়ে মানিকগঞ্জের ঘিওরে উদযাপন করা হয়েছে দুই শতাব্দীরও বেশি পুরোনো বিজয়া দশমীর মেলা। সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে নদী তীরে প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি বসেছিল বিশাল গ্রামীণ মেলা, যা এলাকার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এক উৎসবে রূপ নেয়। প্রতিমা বিদায়ের বেদনা এবং মেলার আনন্দ মিলিয়ে পুরো পরিবেশটি এক আবেগঘন ও বর্ণিল আবহ তৈরি করেছিল। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

ঘিওর ডি.এন. পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই মেলায় প্রায় তিন শতাধিক দোকান বসেছিল, যেখানে নাগরদোলা থেকে শুরু করে নানা ধরনের মিষ্টি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা সাজিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। বিজয়া দশমীর দিনে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমাগুলো বিদ্যালয়সংলগ্ন পুরোনো ধলেশ্বরী নদীর তীরে নিয়ে আসা হয়। বিসর্জনের আগে শেষবারের মতো প্রতিমা দর্শনের সময় ভক্তদের উলুধ্বনি ও ঢাকের শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এর মাঝেই সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এই মেলাটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষের শৈশব ও কৈশোরের নানা স্মৃতি যা আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে আছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, বন্ধুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা করার পাশাপাশি এই মেলা তাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে ঐতিহ্য ধরে রাখতে বংশপরম্পরায় মেলায় মিষ্টি বিক্রি করছেন এমন ব্যবসায়ীরাও ভালো ব্যবসার পাশাপাশি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকানগুলো থেকে মিষ্টি কিনে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিয়ে যান।

আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় সুধীজনরা জানান, দুই শ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মেলাটি মূলত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য প্রতীক। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মেলায় আসা মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরো অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন মানুষের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com