October 23, 2026, 7:52 am
সর্বশেষ সংবাদ:

৪ শর্তে আটকে গেছে চুক্তি

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 23, 2026
  • 12 Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া চারটি নতুন শর্তের কারণে থমকে গেছে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই চারটি শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচক। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত আলোচনা শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে আসা নতুন শর্তগুলোর কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

উদ্ভুত জটিলতা নিরসনে বেবিচকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে যাতে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিতে পারেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাহজালালের এই তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার অর্থায়নে প্রায় সাড়ে এক وعিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনালটির আংশিক কার্যক্রম চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও চুক্তির এই জট কাটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে মূলত রাজস্ব ভাগাভাগি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ঝুঁকি, আইনি সুরক্ষা এবং ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা—এই চারটি প্রধান বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের রাজস্বের ২৭ শতাংশ পাওয়ার কথা থাকলেও, কার্যক্রম শুরুর আগের আট মাসের জন্য সাড়ে তেরো শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি পক্ষ। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ওপর থাকলেও এর ঝুঁকি ও আয় বণ্টন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে বিশেষ আইনি দায়মুক্তি এবং ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করার দাবি জানিয়েছে জাপানি প্রতিষ্ঠানটি, যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম জানিয়েছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দর-কষাকষিতে বেবিচক কিছুটা দুর্বল অবস্থানে পড়েছে, যার ফলে বিদেশি পক্ষ নতুন নতুন দাবি তোলার সুযোগ পাচ্ছে। এই মুহূর্তে জাপানি পক্ষের সব শর্ত অন্ধভাবে মেনে নিলে ভবিষ্যতে আরও অনড় দাবির মুখে পড়তে হতে পারে দেশকে। তাই যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রতিটি শর্তের আর্থিক ও আইনগত প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com