October 24, 2026, 11:47 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি: দিলারা চৌধুরী বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন হুমায়ুন এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেল ভাড়া দিলেই ব্যবস্থা, বললেন নারী সংসদ সদস্য পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চান ব্যবসায়ীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির সংখ্যায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ সাফিয়া সাথীর সফল ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প | লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ | পর্ব–১১ মামলা হলে আমাকেই যেন প্রধান আসামি করা হয়: রুমিন ফারহানা সিডনিতে কাল চালু হচ্ছে নতুন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চান ব্যবসায়ীরা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 24, 2026
  • 17 Time View

জাতীয় ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড এবং হিমছড়ি সৈকতে পর্যটক মৃত্যুর মতো অনভিপ্রেত ঘটনার পর পর্যটনশিল্পের সার্বিক নিরাপত্তা ও মানোন্নয়নে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরি হল মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় জেলার শীর্ষস্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পর্যটন নগরীকে আরও নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করে তুলতে সভায় অংশীজনরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বর্তমানে পর্যটন ব্যবসার প্রসারে প্রধানত দুটি বড় ধরনের জটিলতা বাধা সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো প্রতিবেশ সংকটাপন্ন বা ইসিএ আইন, যার কারণে সৈকতসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীরা নানা আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়েন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কেবল একটি বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদনের জন্য তাদের প্রায় ১৭টি ভিন্ন ভিন্ন সরকারি দপ্তরে ধরনা দিতে হয়, যা চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের মাধ্যমেই কেবল কক্সবাজারের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

এই হয়রানি ও জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা সব ধরনের দাপ্তরিক সেবা এক ছাদের নিচে প্রাপ্তির লক্ষ্যে একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ চালুর জোরালো দাবি জানান। একই সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহ করার জন্য তারা প্রশাসনের কাছে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় প্রার্থনা করেন। তবে কউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনেক হোটেলেই অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব রয়েছে, যা প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ব্যবসার পাশাপাশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কউকের নির্দিষ্ট নীতিমালা ও আইন কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য হোটেল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, একটি নিরাপদ ও আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে হলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া পর্যটন খাতের প্রসারের স্বার্থে ইসিএ আইন কিছুটা শিথিল করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বৈঠকে অন্য বক্তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বা জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেন এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়মের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। সব পক্ষের আলোচনা শেষে জেলা প্রশাসক জানান যে, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার গঠনের লক্ষে একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করা হবে এবং কমিটির সুপারিশগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম বৈধ অনুমোদন নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com