October 29, 2026, 12:25 am
সর্বশেষ সংবাদ:
আরব দলগুলোর চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ ডিজিটাল রূপান্তরের আগে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি: হিট প্রকল্প পরিচালক ওজন কমানোর ওষুধে কমছে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি ভোটের আগের রাতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, টাকা বিতরণের দাবি উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির ওএমএসে পুষ্টিসমৃদ্ধ আটা বিতরণের পরিকল্পনা সরকারের গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী কেয়ার বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পাবেন ২ লাখ ৪৫ হাজার তরুণ-তরুণী বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি

কেয়ার বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পাবেন ২ লাখ ৪৫ হাজার তরুণ-তরুণী

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 28, 2026
  • 17 Time View

জাতীয় ডেস্ক: শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেয়ার বাংলাদেশের উদ্যোগে প্রায় দুই লাখ ৪৫ হাজার যুবসমাজকে আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সোবহানবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট মিলনায়তনে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শুভসূচনা করা হয়। ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট বা আর্ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারী ও পুরুষরা এই বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল লক্ষ্য হলো বেকার ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী করে তোলা। অংশগ্রহণকারীদের শুধু সাধারণ শিক্ষা নয়, বরং কারিগরি জ্ঞান, উদ্যোক্তা হওয়ার কলাকৌশল এবং সামাজিক ও আবেগিক দক্ষতার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর ফলে দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি তরুণদের নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা নতুন ব্যবসা শুরুর পথ সুগম হবে। কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস মনে করেন, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তরুণদের সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দিলে প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কাজী মোকলেছুর রহমান জানান, এই প্রশিক্ষণের শেষ গন্তব্য হতে হবে সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থান কিংবা আয়বর্ধক কোনো উদ্যোগ। তরুণদের শুধু দক্ষ করে তুলেই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং তাঁদের কর্মজগতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পুরো প্রকল্প জুড়েই কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার আর্ল আর মিলার বলেন, আর্ন কেবল সাধারণ কোনো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়। এটি মূলত দেশের তরুণ সমাজের সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান টেকসই করার একটি কার্যকর মাধ্যম। বিশ্বব্যাংকের ইমপ্লিমেন্টেশন স্পেশালিস্ট রওনক জাহান তাঁর বক্তব্যে বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের জোরালো অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি মনে করেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুবসমাজকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এতে তরুণ চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগদাতাদের মধ্যে একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে নিয়োগদাতারা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন বর্তমান কর্মক্ষেত্রে তারা তরুণদের মধ্যে ঠিক কী ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতা দেখতে চান। পাশাপাশি, চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীরাও তাদের কর্মজীবনে প্রবেশ করতে গিয়ে কিংবা নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে যেসব বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, কেয়ার বাংলাদেশ একা এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে না; বরং তারা সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট, দ্য আর্থ সোসাইটি, ইএসডিও, জাগো ফাউন্ডেশন, এমএডব্লিউটিএস, তাহজিংডং, ইউসেপ বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের মতো একাধিক স্বনামধন্য সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। দেশের রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়াও পাহাড়ি অঞ্চল বা পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ-তরুণীরা এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com