October 29, 2026, 11:25 am
সর্বশেষ সংবাদ:
জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’ প্রাণ-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডসের চূড়ান্ত বিচারকার্যে দেশের বিশিষ্টজনেরা পকেটে হারমোনিকা, কোথায় পাব, দাম কত যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন হুইপ জি কে গউছ মাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল ভারত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে, আবার সাগরে ছুটবে মাছ ধরার নৌকা গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ: এএফপির প্রতিবেদন প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ: এএফপির প্রতিবেদন

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 29, 2026
  • 15 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে তীব্র কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো রূপরেখা তৈরি না হলে শুষ্ক মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র পানিসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের কৃষি খাত, মৎস্যসম্পদ, অনন্য সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য এবং কোটি কোটি মানুষের জীবনজীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পানি বণ্টন চুক্তিটি উভয় দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক এই চুক্তির আওতায় শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টন করা হতো। তবে বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে উজানে অবস্থিত এই ব্যারাজটি ১৯৭৫ সালে চালুর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে মতপার্থক্য চলে আসছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, ভারত একতরফাভাবে উজানে অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ ও পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে ভাটিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের নদনদীগুলোতে পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পানি বণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন নতুন চুক্তিটি হতে হবে সম্পূর্ণ পারস্পরিক সুবিধা ও সমতার সম্মানের ভিত্তিতে। তবে চুক্তি নবায়নের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং নদী অববাহিকার বর্তমান বাস্তব চাহিদা বিবেচনা করে নতুন চুক্তিতে সার্বিক পানিপ্রবাহের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও নদী গবেষকরা।

১৯৯৬ সালের চুক্তিতে মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়নি, যা বর্তমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে দুই দেশ নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ পানিসংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গড়াই নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখানদীগুলোর নাব্য সংকট সুন্দরবনের মিঠাপানির প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে এবং সমুদ্রের লবণাক্ততা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার্থে দ্রুত মন্ত্রী ও কারিগরি পর্যায়ে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com