October 30, 2026, 8:59 am

রামেক হাসপাতাল: পোড়া এক্স-রে মেশিন পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 30, 2026
  • 19 Time View

অপরাধ ডেস্ক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন পুড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে সেটি মেরামত বা নতুন মেশিন স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়া রোগীদের জিম্মি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অতিরিক্ত অর্থে বাইরে থেকে মেশিন এনে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারির শেষ দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে রাখা সচল পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মুহূর্তেই মূল্যবান মেশিনটি সম্পূর্ণ পুড়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

ঘটনার পরপরই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন অধ্যাপককে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তারা নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবেদন জমা দেন। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে আগুন দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কাউকে চিহ্নিত করতে না পারায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এদিকে মেশিন পুড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।

জরুরি প্রয়োজনে ওয়ার্ডের ভেতরে এক্স-রে করার সুবিধা বন্ধ থাকায় রোগীদের এখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাইরের সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। হাসপাতালের নিজস্ব রেডিওলজি বিভাগে নামমাত্র খরচে এই পরীক্ষা করা গেলেও বাইরে থেকে আনা মেশিনে রোগীদের গুনতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দেয়ালে গোপনে এই সেবার প্রচারপত্রও সাঁটানো হয়েছে এবং ছুটির দিনেও চড়া মূল্যে এক্স-রে করার অফার দেওয়া হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীরা আর্থিক দিক থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পুড়ে যাওয়া মেশিনটি মেরামতের জন্য জাতীয় ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্মশালায় একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন মেশিন ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত সংকট সমাধানের আশা প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও প্রশাসনিক পালাবদলের এই সময়ে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি এখনো কমাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com