October 31, 2026, 8:39 am

চুরি হওয়া ৬.৩ বিলিয়ন ডলার উদ্ধারে তৎপর বিন্যান্স

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 31, 2026
  • 18 Time View

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিন্যান্স থেকে বিশাল অঙ্কের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটে যা ক্রিপ্টো বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই সাইবার হামলায় প্রায় ছয়শত ত্রিশ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ বেহাত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এর প্রায় অর্ধেক অংশ অর্থাৎ তিনশত কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাকি বিশাল পরিমাণ অর্থ এখনো অজ্ঞাতনামা হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তা উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে এই বড় ধরনের সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার কোনো হ্যাকার গোষ্ঠীর সরাসরি হাত থাকতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তে একটি ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কথা ভাবা হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক পয়েন্টে নিরাপত্তা ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং জানান যে এটি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে চালানো হামলা নয় বরং এর পেছনে সুসংগঠিত চক্র রয়েছে। হ্যাকাররা তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং ডিজিটাল অপরাধের সমস্ত চিহ্ন ধ্বংস করার জন্য বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করেছে যা তদন্ত কাজকে বেশ জটিল করে তুলেছে। টিআরএম ল্যাবস এবং চেইনঅ্যানালাইসিসের মতো শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোও জানিয়েছে যে এই হামলার মোটিফ ও কার্যপদ্ধতির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী সাইবার হামলার মিল রয়েছে।

চুরি হওয়া অর্থ শনাক্ত করতে এবং তা ফিরিয়ে আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে। অর্থের সঠিক গতিপথ অনুসরণ, সম্পদ জব্দ এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। বিন্যান্সের পক্ষ থেকেও এফবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। সৌভাগ্যবশত এই হামলায় বিন্যান্সের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে খোয়া যাওয়া সম্পদের মধ্যে জনপ্রিয় কিছু স্টেবলকয়েনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

গ্রাহকদের মনে স্বস্তি ফেরাতে বিন্যান্স জানিয়েছে যে ব্যবহারকারীদের ফান্ড সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং চুরির কারণে কোনো ক্ষতি হলে তা প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে পূরণ করবে। তা সত্ত্বেও এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে ক্রিপ্টো বাজারে নানা ধরনের গুঞ্জন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি মূলত প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মে বিশ্বজুড়ে ত্রিশ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হলেও পিয়ংইয়ং সবসময় এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com