October 31, 2026, 10:49 am
সর্বশেষ সংবাদ:
মেসির স্মৃতিবিজড়িত মাঠে খেলবে না আর্জেন্টিনা বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে চড়া মূল্য দিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৮ ডলার নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয় ফুলবাড়ীয়ায় ৫৩ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা সাজেকে অবরোধ: দুই সশস্ত্র সংগঠনের বলির পাঁঠা স্থানীয় বাসিন্দারা এইচএসসির ফল আজ, এবার ফল দেখতে এসএমএস পাঠাতে হবে নতুন নম্বরে

অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 31, 2026
  • 15 Time View

স্বাস্থ্য ডেস্ক: অ্যান্টিবায়োটিকের নির্ধারিত কোর্স শেষ না করার স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত মারাত্মক এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পাঁচ, সাত বা দশ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু সাধারণত দুই বা তিন দিন ওষুধ খাওয়ার পর জ্বর, সর্দি কিংবা সংক্রমণের অন্যান্য উপসর্গ কমে গেলে রোগীরা মনে করেন তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। এই ধারণা থেকে অনেকে বাকি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি বড় ভুল এবং এর কারণে শরীরে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ওষুধের প্রথম ধাক্কায় শরীরের দুর্বল জীবাণুগুলো মারা গেলেও কিছু শক্তিশালী ও সহনশীল ব্যাকটেরিয়া জীবিত থেকে যায়। ডোজ সম্পূর্ণ না করার কারণে এই টিকে থাকা জীবাণুগুলো ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। বেঁচে যাওয়া এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পরবর্তীতে অতি দ্রুত রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে বংশবিস্তার করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুপারবাগ বা অপ্রতিরোধ্য হিসেবে পরিচিত। এর ফলে পরবর্তীতে একই ধরনের সংক্রমণ বা রোগ দেখা দিলে সেই নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর শরীরে আর কোনো কাজ করে না।

অসম্পূর্ণ চিকিৎসার ফলে পরবর্তীতে রোগটি আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে শরীরে ফিরে আসে এবং সাধারণ কোনো ওষুধে কাজ না হওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন চিকিৎসকদের অত্যন্ত শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং প্রচুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত রিজার্ভ ক্যাটাগরির কিংবা তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় এই শক্তিশালী ওষুধগুলোও কার্যকর হতে ব্যর্থ হয় এবং আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা এএমআরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

আইসিডিডিআরবি এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে আসা রোগীদের একটি বড় অংশে বহু-ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপসর্গ পুরোপুরি সেরে গেলেও নির্ধারিত দিন ও মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শতভাগ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির সংস্কৃতি বন্ধ করা, সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশনে এর ব্যবহার রোধ করা এবং পশুপাখির চিকিৎসায় এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com