November 4, 2026, 9:26 am

মূল্যস্ফীতির চাপে সঞ্চয়ের পুরোনো শিক্ষা

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, November 3, 2026
  • 24 Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: ছোটবেলায় সংসারের খরচের হিসাব মেটানোর পর বেঁচে যাওয়া কিছু খুচরা পয়সা মায়ের মাটির ব্যাংকে জমানোর স্মৃতি অনেকেরই মনে আছে। মিতব্যয়িতার এই সুন্দর অভ্যাসটি শুধু একটি পরিবারের ভরসাই ছিল না, বরং তা যেকোনো বিপদের দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাত। প্রথাগত কোনো অর্থনীতির শিক্ষা না থাকলেও মায়েদের এই সঞ্চয়ের মানসিকতা ছিল ভবিষ্যতের প্রতি এক ধরনের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবসের মূল বার্তাও মূলত এই ঘরোয়া সঞ্চয় এবং সচেতন খরচের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা যুগ যুগ ধরে মানুষের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করে আসছে।

তবে বর্তমান সময়ে এসে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের ব্যবধান বাড়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এই সঞ্চয় টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে তুলনায় খেটে খাওয়া মানুষের মজুরি বাড়ছে না। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে আয়ের বড় একটি অংশ শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকের পক্ষেই আর টাকা জমানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকটের কারণে দেশের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য নানা উপায়ে সঞ্চয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ জরুরি প্রয়োজনের কথা ভেবে অর্থ জমিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, মিতব্যয়িতা এবং নিদারুণ অভাবের কারণে খরচ কমানো এক বিষয় নয়। যাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত আয় নেই, তাদের জন্য কেবল সঞ্চয়ের পরামর্শ কার্যকর হতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন ন্যায্য আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে আর্থিক সংকট এড়াতে আয়ের শুরুতেই কিছু অংশ আলাদা করে সঞ্চয় করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। মাস শেষের উদ্বৃত্ত অর্থের ওপর নির্ভর না করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী জরুরি তহবিল গঠন করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় ঋণ এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক নানা আচার-অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খরচ না করে সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ সঞ্চয়ের বিকল্প তৈরি করা এবং সরকারি খরচে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বা জ্বালানি তেলের দাম আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও পারিবারিক ও ব্যক্তিগত স্তরের আর্থিক শৃঙ্খলা আমাদের হাতেই রয়েছে। বিপদের দিনে টিকে থাকার জন্য সামান্য হলেও সঞ্চয় জমানোর মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র পরিসরে জমানো এই অর্থই শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারকে বড় ধরনের সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিকেও মজবুত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com