November 5, 2026, 1:46 am
সর্বশেষ সংবাদ:
শুধু দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন থাকলেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যায় না সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে আবারও সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস বিতর্কিত ‘বিশ্বকাপ বিক্রি’ প্রকল্পের নথি দেখানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের হোঁচট, চাপে পড়তে পারেন ইনফান্তিনো বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: স্পিকার ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের সঙ্গে ডিজিইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক ইরান যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: ডেমোক্র্যাট নেতা শুমার মাদক সেবনের দায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কার, ১৫ দিনের কারাদণ্ড সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তারে নিতে হবে আদালতের পূর্বানুমতি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬৮ কর্মচারীর বেতন বন্ধ, চাকরি হারানোর শঙ্কা

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, November 4, 2026
  • 18 Time View

শিক্ষা ডেস্ক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারীর বেতন গত তিন মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়ার পাশাপাশি চাকরি হারানোর তীব্র আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এসব ভুক্তভোগী কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসির নির্দেশনা এবং সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি এবং হঠাৎ বেতন বন্ধের ঘটনায় কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের জনবল ঘাটতি মেটাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল মিলিয়ে ২৬৮ জন কর্মী কর্মরত আছেন, যাদের কেউ থোক বরাদ্দে আবার কেউ দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন। এদের মধ্যে অনেকে পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেলেও দীর্ঘদিনেও তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। এই কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় একুশ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়, যা মেটাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে ইউজিসির বিশেষ বরাদ্দ ও অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হলেও বর্তমানে ঋণ করে বা তহবিল সংকটের কারণে সেই অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কর্মচারীদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সামান্য বেতনে সংসার চালানোই যেখানে দুরূহ, সেখানে তিন মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এর আগে বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে তারা বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করেছেন। এমনকি অনেকে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও দায়ের করেছেন। তাদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন প্রশাসন এই ধরনের নির্দেশনা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে বেতন বন্ধ করেনি। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন নতুন কোনো লোক নিয়োগের উদ্দেশ্যে তাদের ছাঁটাই করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ইউজিসির পূর্বানুমোদন ছাড়া নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মচারীর বিপরীতে কোনো বরাদ্দ না থাকায় এবং কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনার কারণেই বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় এবং এই পদের কর্মচারীদের না রাখার নির্দেশ আসায় সিন্ডিকেট সভা এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো চাইলে নিজ দায়িত্বে তাদের কাজে রাখতে পারবে এবং সে ক্ষেত্রে তাদের বেতনের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট বিভাগকেই বহন করতে হবে।

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানান, ইউজিসি থেকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া এড়াতে এবং ইউজিসির নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এতগুলো মানুষের মাসিক বেতনের বিকল্প উৎসের সন্ধান না থাকায় প্রশাসন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পড়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com